মোগল সাম্রাজ্য (পর্ব-৪)
WB SSC Special | সম্রাট ঔরঙ্গজেব (১৬৫৮ - ১৭০৭ খ্রি:)
ভূমিকা: শাহজাহানের পর তাঁর পুত্র ঔরঙ্গজেব এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক এবং সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাঁর রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য আয়তনে সর্বাধিক বিস্তার লাভ করলেও, তাঁর কঠোর নীতি সাম্রাজ্যের পতনের বীজ বপন করেছিল।
ক) ঔরঙ্গজেবের সিংহাসন আরোহণ ও ব্যক্তিগত জীবন
১৫৫. ঔরঙ্গজেব কবে সিংহাসনে বসেন?
১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে (সামুগড়ের যুদ্ধে দারাকে পরাজিত করার পর)।
১৫৬. তিনি কতবার রাজ্যাভিষেক করেন?
দুবার (১৬৫৮ সালে আগ্রায় এবং ১৬৫৯ সালে দিল্লিতে)।
১৫৭. ঔরঙ্গজেবের উপাধি কী ছিল?
আলমগীর (বিশ্ব বিজেতা) এবং পাদশাহ গাজি।
১৫৮. তাঁকে 'জিন্দা পীর' (Living Saint) বা 'দরবেশ' কেন বলা হতো?
তাঁর অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন এবং ধর্মের প্রতি নিষ্ঠার জন্য।
১৫৯. তিনি নিজের খরচের জন্য কী করতেন?
টুপি সেলাই করতেন এবং কোরান নকল করতেন (রাজকোষ থেকে ব্যক্তিগত খরচ নিতেন না)।
১৬০. ঔরঙ্গজেব কোন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন?
বীণা (Veena)।
১৬১. তিনি দরবারে কী নিষিদ্ধ করেছিলেন?
সঙ্গীত ও নৃত্য (যদিও তাঁর সময়েই ফারসি ভাষায় সর্বাধিক সঙ্গীত গ্রন্থ রচিত হয়)।
১৬২. তিনি আর কোন প্রথাগুলি বন্ধ করেন?
ঝরোখা দর্শন, তুলাদান এবং নৌরোজ উৎসব।
খ) ধর্মনীতি ও বিদ্রোহ
১৬৩. ঔরঙ্গজেব কবে জিজিয়া কর (Jizya Tax) পুনরায় চালু করেন?
১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে (আকবর এটি তুলে দিয়েছিলেন)।
১৬৪. তিনি তীর্থকর পুনরায় চালু করেছিলেন কি?
হ্যাঁ।
১৬৫. তাঁর আদেশে কোন বিখ্যাত মন্দির ধ্বংস করা হয়?
কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির, মথুরার কেশবদেব মন্দির এবং গুজরাটের সোমনাথ মন্দির।
১৬৬. 'মুহতাসিব' (Muhtasibs) কাদের বলা হতো?
ঔরঙ্গজেবের নিয়োগ করা ধর্মনীতি পর্যবেক্ষক বা সেন্সর অফিসার (মানুষ শরিয়ত মানছে কিনা দেখার জন্য)।
১৬৭. জাঠ বিদ্রোহ কার নেতৃত্বে হয়?
গোকলা, রাজারাম এবং চুড়ামন (১৬৬৯ খ্রি:)।
১৬৮. জাঠরা কার সমাধি লুন্ঠন করেছিল?
আকবরের সমাধি (সিকান্দ্রায়)।
১৬৯. সৎনামী বিদ্রোহ (Satnami Rebellion) কবে হয়?
১৬৭২ খ্রিস্টাব্দে (পাঞ্জাব ও হরিয়ানায়)।
১৭০. বুন্দেলা বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
ছত্রশাল (Chhatrasal)।
১৭১. শিখদের নবম গুরু কে ছিলেন?
গুরু তেগ বাহাদুর।
১৭২. ঔরঙ্গজেব কেন গুরু তেগ বাহাদুরকে হত্যা করেন?
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করায় এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের রক্ষা করার জন্য (১৬৭৫ খ্রি: - দিল্লির চাঁদনি চকে)।
১৭৩. দশম শিখ গুরু গোবিন্দ সিংহ কী গঠন করেন?
খালসা (১৬৯৯ খ্রি:) - মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।
গ) রাজপুত ও মারাঠা নীতি
১৭৪. মারওয়ারের রাঠোর নেতা কে ছিলেন যিনি ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন?
দুর্গাদাস রাঠোর (যশবন্ত সিংহের মৃত্যুর পর তাঁর শিশুপুত্র অজিত সিংহকে রক্ষা করার জন্য)।
১৭৫. ঔরঙ্গজেবের কোন পুত্র রাজপুতদের সাথে হাত মিলিয়ে বিদ্রোহ করেন?
যুবরাজ আকবর (দ্বিতীয়)।
১৭৬. মারাঠা বীর শিবাজীর সাথে ঔরঙ্গজেব কাকে যুদ্ধের জন্য পাঠান?
শায়েস্তা খাঁ (১৬৬০) এবং পরে রাজা জয় সিংহ (১৬৬৫)।
১৭৭. পুরন্দরের সন্ধি (Treaty of Purandar) কবে ও কাদের মধ্যে হয়?
১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে, শিবাজী ও রাজা জয় সিংহের মধ্যে।
১৭৮. শিবাজী কবে আগ্রা দরবারে উপস্থিত হন?
১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে (ঔরঙ্গজেব তাঁকে বন্দী করেন, কিন্তু তিনি ফলের ঝুড়িতে করে পালান)।
১৭৯. ঔরঙ্গজেব শিবাজীর পুত্র শম্ভুজীকে কী করেছিলেন?
নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলেন (১৬৮৯ খ্রি:)।
ঘ) দাক্ষিণাত্য নীতি (Deccan Policy)
১৮০. ঔরঙ্গজেবের জীবনের শেষ ২৫ বছর কোথায় কাটে?
দাক্ষিণাত্যে (১৬৮২-১৭০৭ খ্রি: - মারাঠা ও শিয়া রাজ্য দমনের জন্য)।
১৮১. ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতিকে কী বলেছেন?
"দাক্ষিণাত্যের ক্ষত" (Deccan Ulcer) - যা মোগল সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দেয়।
১৮২. ঔরঙ্গজেব কবে বিজাপুর (Bijapur) দখল করেন?
১৬৮৬ খ্রিস্টাব্দে (সিকান্দার আদিল শাহকে পরাজিত করে)।
১৮৩. তিনি কবে গোলকুণ্ডা (Golconda) দখল করেন?
১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে (আবুল হাসান কুতুব শাহকে পরাজিত করে)।
১৮৪. ঔরঙ্গজেবের রাজধানী দক্ষিণ ভারতে কোথায় ছিল?
ঔরঙ্গাবাদে।
ঙ) স্থাপত্য ও মৃত্যু
১৮৫. বিবি কা মকবরা (Bibi Ka Maqbara) কে নির্মাণ করেন?
ঔরঙ্গজেব (ঔরঙ্গাবাদে - তাঁর স্ত্রী দিলরাস বানু বেগমের স্মৃতিতে)।
১৮৬. বিবি কা মকবরাকে কী বলা হয়?
তাজমহলের সস্তা অনুকরণ বা 'দ্বিতীয় তাজমহল' (Mini Taj)।
১৮৭. দিল্লির লাল কেল্লার ভেতরের 'মতি মসজিদ' কে নির্মাণ করেন?
ঔরঙ্গজেব।
১৮৮. লাহোরের 'বাদশাহী মসজিদ' কে নির্মাণ করেন?
ঔরঙ্গজেব।
১৮৯. ঔরঙ্গজেব কবে মারা যান?
১৭০৭ খ্রিস্টাব্দের ৩রা মার্চ (আহমেদনগর)।
১৯০. ঔরঙ্গজেবের সমাধি কোথায় অবস্থিত?
দৌলতাবাদ বা খুলদাবাদে (খুবই সাধারণ মাটির সমাধি)।
১৯১. ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল সাম্রাজ্যের কী অবস্থা হয়?
দ্রুত পতন ঘটে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলি স্বাধীন হতে থাকে।
১৯২. ঔরঙ্গজেবের সময় মোগল সাম্রাজ্যে সুবার (প্রদেশ) সংখ্যা কত ছিল?
২১টি (সর্বোচ্চ)।
১৯৩. মির্জা মহম্মদ কাজিম কোন ঐতিহাসিক গ্রন্থ রচনা করেন?
আলমগীরনামা (ঔরঙ্গজেবের রাজত্বের প্রথম ১০ বছরের ইতিহাস)।
১৯৪. 'ফতোয়া-ই-আলমগিরি' কী?
ইসলামি আইনের একটি সংকলন (ঔরঙ্গজেবের নির্দেশে রচিত)।