বাচ্য (Voice) - প্রথম খণ্ড
বাচ্য কী?
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। অর্থাৎ, বাক্যের মধ্যে কর্তা, কর্ম নাকি ক্রিয়া—কার প্রাধান্য বেশি, তা যে রূপের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তাকেই বাচ্য বলে।
(সহজ কথায়: কথা বলার ঢং বা স্টাইলই হলো বাচ্য।)
বাচ্যের প্রকারভেদ
বাংলা ব্যাকরণে বাচ্য প্রধানত ৪ প্রকার:
যে বাক্যে কর্তার (Subject) প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়াপদ কর্তাকে অনুসরণ করে।
(এখানে 'আমি' প্রধান, তাই 'পড়ি' হয়েছে। 'সে' হলে 'পড়ে' হতো।)
যে বাক্যে কর্মের (Object) প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়াপদ কর্মকে অনুসরণ করে। এতে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়া', 'কর্তৃক' থাকে।
(এখানে 'বিজিত হয়' কথাটি কর্মের ওপর নির্ভর করছে।)
যে বাক্যে কর্তা বা কর্ম কারও প্রাধান্য না থেকে ক্রিয়ার (Action) অর্থই প্রধান হয়। এতে সাধারণত কর্ম থাকে না।
(এখানে 'আমি' বা 'খাবার' বড় কথা নয়, 'খাওয়া' বা কাজটাই প্রধান।)
যে বাক্যে কর্তা অনুপস্থিত থাকে এবং কর্মই কর্তার মতো কাজ করে বা আচরণ করে।
(বাঁশি নিজে বাজে না, কেউ বাজায়। কিন্তু বাক্যে মনে হচ্ছে বাঁশিই বাজছে।)