বাংলা ব্যাকরণ : বাচ্য

বাচ্য (Voice) - প্রথম খণ্ড: তত্ত্ব ও প্রকারভেদ

বাচ্য (Voice) - প্রথম খণ্ড

বাচ্য কী?

বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। অর্থাৎ, বাক্যের মধ্যে কর্তা, কর্ম নাকি ক্রিয়া—কার প্রাধান্য বেশি, তা যে রূপের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তাকেই বাচ্য বলে।

(সহজ কথায়: কথা বলার ঢং বা স্টাইলই হলো বাচ্য।)

বাচ্যের প্রকারভেদ

বাংলা ব্যাকরণে বাচ্য প্রধানত ৪ প্রকার:

১. কর্তৃবাচ্য (Active Voice)

যে বাক্যে কর্তার (Subject) প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়াপদ কর্তাকে অনুসরণ করে।

গঠন: কর্তা (১মা বিভক্তি) + কর্ম + ক্রিয়া
উদাহরণ: আমি বই পড়ি।

(এখানে 'আমি' প্রধান, তাই 'পড়ি' হয়েছে। 'সে' হলে 'পড়ে' হতো।)

২. কর্মবাচ্য (Passive Voice)

যে বাক্যে কর্মের (Object) প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়াপদ কর্মকে অনুসরণ করে। এতে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়া', 'কর্তৃক' থাকে।

গঠন: কর্তা (৩য়া বিভক্তি) + কর্ম (১মা) + ক্রিয়া
উদাহরণ: আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য বিজিত হয়।

(এখানে 'বিজিত হয়' কথাটি কর্মের ওপর নির্ভর করছে।)

৩. ভাববাচ্য (Impersonal Voice)

যে বাক্যে কর্তা বা কর্ম কারও প্রাধান্য না থেকে ক্রিয়ার (Action) অর্থই প্রধান হয়। এতে সাধারণত কর্ম থাকে না।

গঠন: কর্তা (৬ষ্ঠী বিভক্তি - র/এর) + নামপুরুষের ক্রিয়া
উদাহরণ: আমার খাওয়া হবে না।

(এখানে 'আমি' বা 'খাবার' বড় কথা নয়, 'খাওয়া' বা কাজটাই প্রধান।)

৪. কর্মকর্তৃবাচ্য (Quasi-Passive Voice)

যে বাক্যে কর্তা অনুপস্থিত থাকে এবং কর্মই কর্তার মতো কাজ করে বা আচরণ করে।

গঠন: কর্মই যখন কর্তা হয়ে যায়।
উদাহরণ: বাঁশি বাজে। / কলমটা ভালো লেখে।

(বাঁশি নিজে বাজে না, কেউ বাজায়। কিন্তু বাক্যে মনে হচ্ছে বাঁশিই বাজছে।)

পরের খণ্ডে দেখুন: বাচ্য পরিবর্তনের নিয়মাবলী...

Post a Comment