
1. "কালি, কলম, মন লেখে তিনজন' কিন্তু কলম কোথায়"- লেখকের এ ধরনের মন্তব্যের কারণ কী? অংশটির তাৎপর্য লেখ।
উত্তর: মন্তব্যের কারণ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম শীর্ষক প্রবন্ধে শ্রীপান্থ ছদ্মনামে লেখক নিখিল সরকার কালি কলমের অতীতের ছবি এবং বিবর্তনের পথ ধরে বর্তমানে তার অবস্থানের চমৎকার একটি দলিল পেশ করেছেন। আলোচ্য অংশে প্রচলিত বাংলা প্রবাদ বাক্যকে প্রারম্ভিক ব্যবহার করেছেন প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে।লেখক একজন চাকুরিজীবী। তিনি যেখানে কাজ করেন সেটা একটা লেখালেখির অফিস। প্রাবন্ধিকের ভাষায় সবাই এখানে লেখক কিন্তু লেখকের চোখে ধরা পড়েছে অন্য ছবি। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি অফিসে কলম ব্যবহার করেন। বাকিরা সবাই কাজ করেন কম্পিউটারে। ফলে তাদের কলমের প্রয়োজন নেই। এই বৈপরিত্যের কারণে লেখক আলোচ্য মন্তব্যটি করেন। তাৎপর্য: সাহিত্য হল সৃষ্টি ও নির্মাণ। সাহিত্যিকের মনের কথা যখন শব্দ বন্ধে প্রকাশ পায় তখন তা সাহিত্য হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন নীরব কবি বলে কিছু হয় না। অর্থাৎ ভাব ও কল্পনাকে রূপ দিতে হয়। এর আবশ্যিক উপাদান হল-কালি, কলম ও মন যা একটি লেখার নির্মাণকে শিল্পে পরিণত করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন-কালি, কলম মন লেখে তিনজন।
2. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে লেখক ছেলেবেলার হোমটাস্ক দেখানোর জন্য কোন ব্যবস্থার কথা বলেছেন?
উত্তর: হোমটাস্ক: শ্রীপান্থ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে ৫০-৬০ বছর আগে তার বাল্যকালে গ্রাম বাংলার মানুষ লেখার জন্য যে উপায় বেছে নিয়েছিলেন তা উল্লেখ করেছেন। এই আলোচনার প্রসঙ্গক্রমে লেখক তার ছেলেবেলার স্কুলের হোমটাস্কের প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। লেখকের মতো যারা অজপাড়াগাঁয়ে শৈশব কাটিয়েছেন তারা এখনকার মতো ব্যবহার করতেন না। সরু বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি হত। তারপর সে কঞ্চির সুঁচালো মুখটা চিরে দেওয়া হত যাতে একসঙ্গে অনেকটা কালি গড়িয়ে না পড়ে। সে সময় লেখার জন্য কাগজের পরিবর্তে ব্যবহার করা হত কলাপাতা। সেগুলি কাগজের মতো মাপ করে কেটে নিয়ে তার ওপর কঞ্চির কলমে ঘরের তৈরি কালি দিয়ে লিখে হোমটাস্ক করতে হত তখনকার ছাত্রদের। ওই কলাপাতাগুলি বান্ডিল করে স্কুলে নিয়ে যেতে হত। শিক্ষক মহাশয় হোমটাস্ক দেখে বুঝে আড়াআড়িভাবে ছিঁড়ে পড়ুয়াদের ফেরৎ দিতেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে ছাত্রছাত্রীরা ওই হোমটাস্কের কলাপাতাগুলি কোনো পুকুরে ফেলে দিত। কারণ তখন তারা বিশ্বাস করত এই পাতা যদি কোনোভাবে গোরুতে খায় তবে তা ভয়ানক অমঙ্গাল।
3. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে লেখক কালি প্রস্তুতের কোন চিত্র অঙ্কন করেছেন। অথবা, কালি কীভাবে তৈরি হত?
উত্তর: কালি প্রস্তুতি: বিখ্যাত লেখক শ্রীপান্থ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে লেখক জানিয়েছিলেন কীভাবে কালি ও কলম জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে কম্পিউটার আমাদের লেখালেখির মূল মাধ্যম হলেও একসময় কালি ও দোয়াত ছিল লেখার একমাত্র উপাদান। সেই দিনগুলির কথা লেখক স্মরণ করেছেন। লেখক বলেছেন-'আমি গ্রামের ছেলে' একথা বলার কারণ কলমের সঙ্গে তার জীবনের সম্পর্ক। এরপর তিনি জানিয়েছেন তাকে কালি তৈরি করতে মা পিসি, দিদিরা সাহায্য করতেন। তাদের কালি তৈরির পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সহজ। বাড়ির রান্না হত কাঠের উনুনে। তাতে কড়াইয়ের তলায় বেশ কালি জমত। লাউপাতা দিয়ে তা ঘষে তুলে একটা পাথরের বাটিতে রেখে জলে গুলে নেওয়া হত। লেখক জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে যারা ওস্তাদ তারা সেই কালো জলে হরিতকী ঘযতেন। কখনও কখনও মাকে দিয়ে আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে তা বেটে সেই তরলে মেশাতেন। সব ভালো করে মেশাবার পর একটা খুন্তির গোড়ার দিকটা পুড়িয়ে লাল টকটকে করে সেই জলে ডুবিয়ে দিতেন। অল্প জল হওয়ায় তা টগবগ করে ফুটত। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে দোয়াতে ঢেলে রাখা হত। দোয়াত মানে তখন ছিল মাটির দোয়াত। বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত ঘরে তৈরি কালি আর কলাপাতা এইসব নিয়ে লেখকদের প্রথম লেখালেখি শুরু। এভাবে কালি তৈরির প্রসঙ্গ এনেছেন।
4. 'আমার মনে পড়ে প্রথম ফউন্টেন পেন কেনার কথা'- লেখকের প্রথম ফাউন্টেন পেন কেনার অভিজ্ঞতা লেখ।
উত্তর: ফাউন্টেন পেন কেনার অভিজ্ঞতা: বিখ্যাত লেখক শ্রীপান্থ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর পর লেখক কলেজ স্ট্রিটের এক দোকানে গিয়েছিলেন পেন কিনতে। দোকানি পেনের নাম জানতে চাইলে লেখক কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন। দোকানদার লেখককে একে-একে পেনের দাম ও নাম বলতে থাকলেন। শেষে লেখকের পকেটের অবস্থা বুঝে নিয়ে সস্তার একটি জাপানি পাইলট পেন লেখকের সামনে ধরলেন। শুধু তাই নয় পেনটি কতটা শক্তপোক্ত, টেকশয় সেটা বোঝানোর জন্য লেখকের সামনে ছোটোখাটো একটা ডেমো দিলেন। পেনের মুখ থেকে খাপটা সরিয়ে কলমটা ছুঁড়ে দিলেন টেবিলের পাশে রাখা কাঠের বোর্ডের উপর। সার্কাসে যেমন ছুরির খেলা দেখায় ঠিক সেই রকম। বোর্ড থেকে পেনটা খুলে এনে দু-এক লাইন লিখে লেখককে দেখিয়ে দিলেন নিব ঠিক আছে। লেখক সেদিন জাপানি পাইলট নিয়ে ঘরে ফিরেছিলেন। যা তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে ছিল।