সমাস নির্ণয়ের জাদুকরী কৌশল
নিয়ম মুখস্থ না করেও কীভাবে শব্দ দেখে সমাস চিনবেন?
১. দ্বন্দ্ব সমাস (উভয়পদ প্রধান)
নিয়ম: যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ দুটির অর্থই সমানভাবে বজায় থাকে।
- মাঝখানে হাইফেন (-) থাকবে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে)।
- দুটি পদের মধ্যে 'ও', 'এবং', 'আর' বসিয়ে বাক্য তৈরি করা যাবে।
- দুটি পদ সাধারণত একে অপরের পরিপূরক বা বিপরীত হয়।
উদাহরণ: বাবা-মা (বাবা ও মা), ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ)।
২. দ্বিগু সমাস (পরপদ প্রধান)
নিয়ম: সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের সমাস হয় এবং 'সমাহার' বোঝায়।
- শুরুতে অবশ্যই সংখ্যা থাকবে (যেমন: তিন, চার, সাত, শত)।
- শেষে 'সমাহার' শব্দটি বসিয়ে বাক্য তৈরি হবে।
- এটি কোনো সমষ্টি বা গ্রুপ বোঝাবে।
উদাহরণ: চৌরাস্তা (চৌ বা ৪ রাস্তার সমাহার), সপ্তাহ (সপ্ত অহ বা দিনের সমাহার)।
৩. কর্মধারয় সমাস (পরপদ প্রধান)
নিয়ম: বিশেষণ + বিশেষ্য মিলে হয়। এখানে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে।
- ব্যাসবাক্যের মাঝখানে 'যে' থাকবে। (নীল যে আকাশ = নীলাকাশ)।
- তুলনা বোঝালে 'ন্যায়' বা 'মতো' থাকবে।
- রূপক কর্মধারয় চেনার উপায়: দুটি শব্দের প্রথমটি 'অধরা' (ধরা ছোঁয়া যায় না, যেমন: মন, ক্রোধ) এবং পরেরটি 'ধরা' যায় এমন কিছু হবে। মাঝখানে 'রূপ' বসবে।
উদাহরণ: মহাকীর্তি (মহান যে কীর্তি), মনমাঝি (মন রূপ মাঝি), তুষারশুভ্র (তুষারের ন্যায় শুভ্র)।
৪. তৎপুরুষ সমাস (পরপদ প্রধান)
নিয়ম: পূর্বপদের বিভক্তি (কে, রে, দ্বারা, হতে, র, এর) লোপ পাবে।
- শব্দটিকে ভাঙলে মাঝখানে বিভক্তি চলে আসবে।
- ২য়া: 'কে' লোপ পায় (দুঃখপ্রাপ্ত = দুঃখকে প্রাপ্ত)।
- ৩য়া: 'দ্বারা/দিয়ে' লোপ পায় (মনগড়া = মন দিয়ে গড়া)।
- ৪র্থী: 'জন্য/নিমিত্ত' লোপ পায় (বিয়েপাগলা = বিয়ের জন্য পাগলা)।
- ৬ষ্ঠী: 'র/এর' লোপ পায় (রাজপুত্র = রাজার পুত্র)।
উদাহরণ: বিলাতফেরত (বিলাত হতে ফেরত - ৫মী), গাছপাকা (গাছে পাকা - ৭মী)।
৫. বহুব্রীহি সমাস (নতুন অর্থ প্রধান)
নিয়ম: সমাসের পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে বাইরের কাউকে বোঝায়।
- ব্যাসবাক্যের শেষে সাধারণত 'যার' বা 'যাতে' থাকে।
- শব্দটি দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ বস্তুকে বোঝাবে।
- যেমন: 'দশহাত' মানে ১০টি হাত নয়, এটি দেবী দুর্গাকে বোঝায়।
উদাহরণ: নীলকণ্ঠ (নীল কণ্ঠ যার - শিব), বেতার (নেই তার যাতে - রেডিও)।
৬. অব্যয়ীভাব সমাস (পূর্বপদ প্রধান)
নিয়ম: পূর্বপদে অব্যয় (উপসর্গ) থাকে এবং তার অর্থই প্রধান হয়।
- শব্দের শুরুতে উপসর্গ থাকে: উপ, অনু, প্রতি, আ, গর, হা, বে, নি, ফি।
- এই শব্দগুলো সাধারণত অভাব, সাদৃশ্য, সামীপ্য বা পৌনঃপুনিকতা (বারবার) বোঝায়।
উদাহরণ: দুর্ভিক্ষ (ভিক্ষার অভাব), উপকূল (কূলের সমীপে), প্রতিদিন (দিন দিন)।